অরিত্রীর আত্মহত্যায় ক্ষমা চাইলেন গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন স্কুলের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান গোলাম আশরাফ তালুকদার। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে আমরা সহমর্মিতা প্রকাশ করছি, ক্ষমা চাচ্ছি।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে স্কুলের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি এ ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৬টি দাবির মধ্যে এটি ছিল একটি দাবি।
শিক্ষার্থীদের অপর দাবি গভর্নিং বডির সকল সদস্যের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের বৃহৎ স্বার্থে যদি আমার পদত্যাগ করতে হয় তাহলে অবশ্যই করবো। তাদের দাবির বিষয়টি আমি কমিটির বৈঠকে তুলবো।’
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের ৬টি দাবির মধ্যে অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে। আমাদের গভর্নিং বডির সদস্যসচিব স্কুলের অধ্যক্ষ মামলার আসামি থাকায় আমরা তাকে পাচ্ছি না। তার এই পদে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়ে কমিটির মিটিং আহ্বান করবো। সেখানে বাকি সিদ্ধান্ত হবে।’
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি বলবো শিক্ষার্থীরা, তোমরা ক্লাসে ফিরে এসো।’
এর আগে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদাউসসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশে বরখাস্ত করা হয় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদাউস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার এবং শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে। তারা তিনজনই সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি।
শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিগুলো হচ্ছে-
(১) অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
(২) প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে তাদের নিজস্ব আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্টের ওপর ভিত্তি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আলাদা যত্ন নিশ্চিত করতে হবে।
(৩) কোনোভাবেই কোনও শিক্ষক, শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং অত্যাচার প্রয়োগ করতে পারবে না।
(৪) কথায়-কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি বন্ধ করতে হবে।
(৫) বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মরত সকলের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক পরামর্শদাতা থাকতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।
(৬) গভর্নিং বডির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ ও বিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে হবে।
এদিকে গতকাল বুধবার (৫ ডিসেম্বর) গভর্নিং বডির সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, আগামী শনিবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে পূর্বনির্ধারিত রুটিনে পুনরায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া বুধবারের (৫ ডিসেম্বর) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর)। আর বৃহস্পতিবারের (৬ ডিসেম্বর) পরীক্ষা হবে মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর)।
প্রসঙ্গত, সোমবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর শান্তিনগরে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর (১৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার কারণে অরিত্রী অধিকারীর বিরুদ্ধে নকল করার অভিযোগ আনেন ভিকারুননেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকারা। তারা তার বাবা-মাকে ডেকে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা করতে বলেন।
অরিত্রীর বাবার ভাষ্য, ‘৩ ডিসেম্বর আনুমানিক বেলা ১১টায় আমার স্ত্রী বিউটি অধিকারী ও মেয়ে অরিত্রী অধিকারীকে নিয়ে আমি স্কুলে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা প্রথমে ক্লাস টিচার হাসনা হেনার কাছে যাই। তিনি আমাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখেন এবং পরে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রভাতী শাখা প্রধান জিনাত আক্তারের কাছে নিয়ে যান। তিনি আমাদের দেখেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং আমাদেরকে বলেন, আপনার মেয়েকে টিসি দিয়ে দেবো। তিনি রাগান্বিত অবস্থায় আছেন বুঝতে পেরে আমি তার কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু তিনি বলেন, আমার কিছু করার নেই। তখন আমরা অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদৌসের সঙ্গে দেখা করতে যাই। আমার মেয়ে তার কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং মেয়ের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে আমরাও ক্ষমা চাই। তারপর আমরা কেঁদে ফেলি। আমাদের বা অরিত্রীর কারও ক্ষমা প্রার্থনাই অধ্যক্ষের হৃদয় গলাতে পারেনি।’

ভোট ডাকাতির ভয়াবহ পরিকল্পনা ফাঁস করেছেন লোটাস কামাল: বিএনপি

ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে আবারো ক্ষমতায় থাকার জন্য নানা কূটকৌশল ও নীলনকশা তৈরি করেছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী গ্রেফতারের মহোৎসব চলছে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে গ্রেফতারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত ২০০০ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, প্রহসনের অংশ হিসেবেই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে গায়ের জোরে দূরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। বিপুল জনপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জনগণকেই সবচেয়ে বেশি ভয় পায় শেখ হাসিনা। তাই আইন-ন্যায় বিচারের তোয়াক্কা না করে সরকার বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে। শেখ হাসিনা বসে বসে কষছেন নির্বাচনে কারচুপির অভিনব মহাফন্দি। তারা জানেন, অন্যায় পথে নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া জনসমর্থনশূন্য আওয়ামী লীগের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের অন্য কোনো উপায় নেই। তাই নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আবার ক্ষমতায় যেতে চান তারা। সেজন্য বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার নির্যাতন-নিপীড়ন এবং যতো রকম কৌশল আছে সরকার প্রয়োগ করছে। শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ কথাটা তামাদি করে ফেলেছে আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট নুরুল হুদা কমিশন। সরকারের পক্ষে ইসির নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্ব ভোটারদেরকে হতাশ ও ক্ষিপ্ত করে তুলছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী গ্রেফতারের মহোৎসব চলছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাপিয়ে দেয়া শত শত মামলার বোঝায় নির্বাচনের মাঠ দূরে থাক, ঘরে পর্যন্ত থাকতে পারছেন না ধানের শীষের প্রার্থীসহ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। যারা ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং প্রার্থী হয়ে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এমন ২৭ জন নেতা মিথ্যা মামলায় এখন কারাগারে আটক আছেন। নির্বাচনের মাঠে বিএনপিকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নামে-বেনামে, গায়েবি মামলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বন্দীত্বের লাল দেয়ালের ভেতরে ঘিরে রাখা হয়েছে। মামলা আর পুলিশি হয়রানির কারণে নেতা-কর্মীরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরপরও ক্ষান্ত হচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। পুলিশি হেনস্তার ভয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ভয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন কি না সে বিষয়ে আতঙ্কে রয়েছেন তারা।

রিজভী আহমেদ বলেন, সারাদেশে যারা ভোট গ্রহণ করবেন সেই ডিসি, এসপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনের নির্দেশনা নির্বাচন কমিশন তো দেয়ইনি; উল্টো তাদেরকে পক্ষপাতিত্বের দিকেই উস্কে দিয়েছে ইসি। ইসিতে দফায় দফায় ডেকে এনে সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সংলাপের নামে বিএনপি প্রার্থীদের হয়রানি করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ রিটার্নিং অফিসার আওয়ামী অনুমোদিত মনোবৃত্তির দ্বারা প্রণোদিত। আমরা খবর পেয়েছি, আইন মন্ত্রণালয়ে জেলা দায়রা জজদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে। সেখানে আইন সচিব নির্দেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পূর্বে তারা যেনো বিএনপি’র কাউকে জামিন না দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গ্রেফতার বাড়াতে মনিটরিং সেলও খোলা হয়েছে। এই পরিস্থিাতিতে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বদলে আসন্ন নির্বাচন আবর্জনাময় হয়ে উঠতে পারে।

তিনি আরো জানান, ঢাকার হাইকোর্ট অঙ্গণ থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার জজ কোর্ট, মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টসহ সারাদেশের জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোর আঙ্গিণায় ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ অবস্থা। কোথাও ধানের শীষের প্রার্থীরা জামিনের আবেদন নিয়ে হাজির হচ্ছেন; কোথাও কর্মীরা জামিন চেয়ে আবেদন করছেন; কোথাও গ্রেফতার ঠেকাতে আগাম জামিনের আবেদন, কোথাও স্বামী-স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের পুলিশি গ্রেফতার ঠেকাতে আদালতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। কোর্ট-কাচারীগুলোয় হাজার হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী বিচারপ্রার্থীর উপস্থিাতির নজিরবিহীন এমন দৃশ্য অতীতে কোনো ভোটের সময় দেখা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের অবৈধ মন্ত্রী লোটাস কামালের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির ভয়াবহ পরিকল্পনা ফাঁস করেছেন। প্রকাশ্যে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়ে শেয়ারবাজার ও ব্যাংক লুটেরাদের অন্যতম আ হ ম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল বলছেন-‘একটা একটা করে খুঁজবেন, ২৮ তারিখের আগে যদি এলাকা ছেড়ে না যায় তাহলে আর ছাড় নাই। তাদের চৌদ্দগোষ্ঠী পর্যন্ত উৎখাত করবো’।

লোটাস কামালের উদ্দেশ্যে রিজভী আহমেদ বলেন, এইসব হুমকি-ধামকি ভয়ভীতি দেখিয়ে এবার আর লাভ হবে না। যখন জনগণ ভোটের মাঠে নেমে আসবে তখন কোনো ফন্দি কাজে দিবেনা। কাঁচের মতো সব কিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। অপেক্ষা করুন, যারা দুঃশাসনের বিরোধী সেই জনগণের বিজয়ের দিন খুবই নিকটবর্তী। সরকারের অবরোধী কৌশলে জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না।

তিনি বলেন, ‘সিইসি’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সাবেক সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নাম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তার ভূমিকা দেশ-বিদেশে নিন্দিত-কলঙ্কিত। ক্ষমতাসীনদের ‘নাচের পুতুল’ ওই কাজী রকিব এখন ইতিহাসের পাতায় ১৭৫৭ সালের বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর আলী খাঁর সাথে তালিকাভুক্ত। জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে কাজী রকিব যে পথে হেঁটেছেন বর্তমান সিইসি কে এম নূরুল হুদাও যেন সে পথেই চলতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, সেটাকে এক ডিগ্রি বৃদ্ধি করে নৈতিকতার মাথা খেয়ে নিজের ভাগিনাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করেছেন। তার সাথে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বসে বৈঠকও করছেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রশাসনের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, ডিসি, এসপি এমন ৯২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাদের বদলি ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচিতি ও কর্মকান্ডের তথ্যও দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনে। এদের মধ্যে মাত্র একজন এসপি (নারায়ণগঞ্জ) বদলি করে সেখানে আরো কট্টর আওয়ামীপন্থী ও বিতর্কিত এসপি হারুনকে পদায়ন করা হয়। আমি আবারো বলছি অবিলম্বে পক্ষপাতদুষ্ট ৯২ জনকে বদলী করুন। না হয় নির্বাচনে কোনো গ্রহণযোগ্যতা আসবে না। গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। সাংবিধানিক অধিকার যেমন সঙ্কুচিত তেমনি ক্ষমতায় থেকে লুটপাটকারীদের অর্থের দৌরাত্ম্য কালো থাবার মতো বিস্তার লাভ করেছে। এই অবস্থা থেকে জনগণকে মুক্ত করতে গণতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধে নেমেছে বিএনপি, ২০দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

গোপালগঞ্জে শেখ হাসিনার মনোনয়নপত্র বৈধ, বিএনপির প্রার্থীসহ ৩ জনের বাতিল

গোপালগঞ্জের তিনটি আসনের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী এসএম জিলানীসহ তিনটি আসনে মোট ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়েছে।

রবিবার (২ ডিসেম্বর) জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই যাচাই বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।

গোপালগঞ্জ-১ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামছুল আলম খান চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। দাখিল করা ভোটারদের স্বাক্ষর ঠিক না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। গোপালগঞ্জ-২ আসনে ৫জন প্রার্থীর সবারই মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। বাতিল হয়েছে বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানী ও জাতীয় পার্টির এ জেড এম অপু শেখের মনোনয়নপত্র। যথাযথ কাগজপত্র ও স্বাক্ষর না থাকায় বাতিলদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়।

গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে ১৯ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের ৩ জন, বিএনপির ৬ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর ৩ জন, জাতীয় পার্টির ২ জন, বাসদের ১ জন, এলডিপির ১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৩ জন।

 

 

খোকার ছেলে-মেয়ের জামিন আবেদনের আদেশ আজ

সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার মামলায় বিএনপি নেতা ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও মেয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়েছেন। পৃথক দুটি জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

জামিন আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক শুনানি করেন।

২০০৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর দুদক খোকার ছেলে ইসরাথ হোসেন ও কন্যা সারিকা সাদেকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিলের জন্য পৃথক নোটিস দেয়। কিন্তু তারা সম্পদের বিবরণী জমা না দেওয়ায় ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট রমনা থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

সম্প্রতি বিএনপি থেকে ইশরাক হোসেনকে ঢাকা-৬ এ দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপরই তিনি ও তার বোন হাইকোর্টে হাজির হয়ে আগাম জামিন চান। শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় খোকাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত।

‘বাংলাদেশের নির্বাচনে চোখ রাখছে ইইউ’

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ইইউ বাংলাদেশের নির্বাচনে চোখ রাখছে। তবে প্রস্তুতি না থাকায় তারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দল ৪০ দিন অবস্থান করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইইউ প্রতিনিধি দল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চার কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সচিব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সফরে আসা ইইউ নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ এবং দল প্রধান ডেভিড নয়েল ওয়ার্ড।

এছাড়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ইরিনি-মারিয়া গোওনারি, ঢাকাস্থ ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনজি তেরিঙ্ক এবং ইইউ দূতাবাসের রাজনৈকি বিভাগের প্রথম সচিব এরিকা হ্যাজোন্স।

প্রায় ১ ঘন্টা বৈঠক শেষে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক না পাঠানো এবং নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ পাঠানো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, অনেক কারনেই বাংলাদেশে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়নি। একটি পূর্ণ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে বেশ আগে থেকেই অনেক প্রস্তুতি নিতে হয়।

যার প্রস্তুতি কমপক্ষে ৬ মাস আগে থেকে শুরু করতে হয়। আমাদের অন্যান্য অংশিদার দেশগুলো থেকেও নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর চাপ রয়েছে। ফলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ইইউ সদরদপ্তর নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ফলে যতগুলো দেশ থেকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ এসেছে, তার সবগুলো রাখা ইইউর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি বলেন নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ইইউ না পাঠালেও চেষ্টা করেছে একটি নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ দল প্রেরনের। যার মাধ্যমে ইইউ বাংলাদেশের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।

নির্বাচন কমিশনকে ইইউ পক্ষ থেকে কি ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং তার জবাবে ইসি থেকে কি জানানো হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাফল্য কামনা করেছি। কারণ ১০ কোটি ৪০ লাখ ভোটার এবং ৪০ হাজার নির্বাচনী কেন্দ্র নিয়ে ইসির সামনে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ আসছে। এটি একটি বড় কর্মজজ্ঞ। আমরা আশা করি এটি একটি বেশ প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে। সেই সঙ্গে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে বেশ ভালো বৈঠক হয়েছে। বৈঠকটি মূলত ইইউর নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরিচয় করার দেয়ার জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইইউর নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে ৪০ দিনের মত থাকবেন। বাংলাদেশে থাকাকালিন নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সেই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে তাদের কিছু সুপারিশ দেয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, ইইউ নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ দলের সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি বলেন, তাদের সফরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচনে ইইউ আগ্রহ রয়েছে তা প্রকাশ করা। ইইউ বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিকে চোখ রাখছে।